World

কাজাখস্তান দাঙ্গায় এক ইসরাইলি নিহত। কাজাখস্তানে সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২৫। এক সপ্তাহে আটক প্রায় ৬ হাজার।
Photo

 

অনলাইন ডেস্ক:

 

কাজাখস্তানে সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২৫:

জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে কাজাখস্তানের সাম্প্রতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ২২৫ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার কাজাখস্তান সরকারের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা এমন তথ্য দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

কাজাখস্তান সরকারের আইন বিষয়ক দফতরে অপরাধ আইন নিয়ে কাজ করা প্রধান কর্মকর্তা (আইনজীবী) সেরিক শালাবায়েভ বলেন, কাজাখস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। 


কাজাখস্তানের এ সাম্প্রতিক সহিংসতায় চার হাজার ৩৫৩ জন আহত হয়েছেন। এসব আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন হাজার ৩৯৩ ব্যক্তি হলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

কাজাখস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭৫ ব্যক্তি মারা গেছেন। এসব ব্যক্তি কাজাখস্তানের সাম্প্রতিক সহিংসতায় মারাত্মক আহত হয়েছিলেন।

এদিকে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ দেশটির আকমোলা ও কোস্তানয় থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। এছাড়া কাজাখস্তানের আরো অনেক এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন ।

 

কাজাখস্তান দাঙ্গায় এক ইসরাইলি নিহত:


জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত হয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তানে। যদিও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে দেশটির সরকার। চলমান এই সহিংসতায় দখলদার ইসরায়েলের এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি জানিয়ে বলেছে, তাদের ২২ বছর বয়সী ওই নাগরিক গতকাল শুক্রবার, ৭ জানুয়ারি, গোলাগুলির মধ্যে পড়ে নিহত হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে ইসরায়েলের ওই নাগরিক কাজাখস্তানে বসবাস করে আসছিল বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।


কাজাখস্তানে বিক্ষোভ-সহিংসতা, এক সপ্তাহে আটক প্রায় ৬ হাজার:


কাজাখস্তানে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৮শ জনকে আটক করেছে পুলিশ। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পর কাজাখস্তানজুড়ে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ হয়। এরপর রাশিয়ান জোট দেশটির বিক্ষোভ দমনে সৈন্য পাঠায়। রোববার (৯ জানুয়ারি) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশটির প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভের কার্যালয় জানায়, বিভিন্ন আদেশের কারণে দেশ স্থিতিশীল হয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের দখলে থাকা প্রশাসনিক ভবনগুলোরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বিক্ষোভের সময় বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছিল। রাশিয়ার গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাজাখস্তানের আলমাতি এলাকায় রোববারও বিক্ষিপ্তভাবে গুলির শব্দ শোনা গেছে।


গত সপ্তাহে আলমাতি বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। তারপর থেকেই বিমানবন্দরটি বন্ধ ছিল। এখন এটি সরকারের দখলে এসেছে। তাই এর কার্যক্রম সোমবার থেকে আবারও শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে সরকারের পতন চেয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এদিকে দেশটিতে রুশ নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।


বিক্ষোভ-সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে, কাজাখস্তান সরকার নিজেই পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কেন বিদেশি সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়।

 

কাজাখস্তানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পাহারা দিচ্ছে রুশ সৈন্যরা:


রুশ সৈন্যরা কোন কোন স্থাপনা পাহারা দিচ্ছে বা তারা কতদিন থাকবে, তার বিস্তারিত জানায়নি প্রেসিডেন্টের দফতর।কর্তৃপক্ষ বলছে, গত ক'দিনের অস্থিরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের দফতর বলছে, গ্রেফতার হওয়া লোকজনের মধ্যে অনেক বিদেশিও আছে, তবে এই বিদেশিরা কারা, তার বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, "দেশের সব অঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, যদিও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।"তবে গত ক'দিনের সহিংসতায় কত মানুষ নিহত হয়েছে, তার কোন তথ্য সরকারি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।

কাজাখস্তানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর। কিন্তু পরবর্তীকালে এটি দেশটির ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ পর্যায়ের লোকজনের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রূপ নেয় বলে মনে করা হচ্ছে।

 

অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যেই কাজাখস্তানে সহিংসতা হয়:

কাজাখস্তানে অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যে গত সপ্তাহে রক্তাক্ত সহিংসতা সংগঠিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্রগুলোর সামরিক জোটের নেতাদের উদ্দেশ্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

 

একটি ‘নির্দিষ্ট স্থান’ থেকে এই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জোটের নেতাদের বলেন প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ। তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, কাজাখস্তানকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে রাশিয়া কখনই এ অঞ্চলে বিপ্লব হতে দেবে না।

 

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar